এ বিষয়ের ওপর গত ৫ অক্টোবর ২০১৬ ইসায়ি তারিখে আল্লামা শাইখ সৈয়দ আশরাফ আলি আল-কাদিরি (মাদ্দা জিল্লুহুল আলি) উনার ফেসবুকের পাতায় লিখেছিলেন । বিষয়টিতে উনার নিজস্ব কোন আবেগ উক্তি তুলে ধরেন নি তিনি ।
বরং তিনি আহলে সুন্নাতের নির্ভরযোগ্য আকাইদের কিতাব -' শারহে আকাইদে নসফি ' কিতাবের মূল ইবারত সহ তরজমা প্রকাশ করেন উনার ফেসবুকের পাতায় ।
সেখান থেকে আমাদের এই ওয়েব সাইটের পাতায় আমরা লেখাটিকে উপস্থাপন করেছি ।

তরজমা : আল্লামা শাইখ সৈয়দ আশরাফ আলি আল-কাদিরি (মাদ্দা জিল্লুহুল আলি)।
" সালফে সালিহিন ও মুজতাহিদিন থেকে মুয়াবিয়া ও তার দলকে লানত করার বৈধতার ব্যপারে বর্ণনা আসে নি। কারণ, তাঁদের বিষয়কে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও ইমামের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আন্দোলন মনে করা হয়। আর এ দ্বারা লানত ওয়াজিব সাব্যস্ত হয় না। তবে এজিদ ইবন মুয়াবিয়া সম্পর্কে অবশ্য মতভেদ আছে। ' খুলাসা 'ও আরও কিছু কিতাবের মতে তাকে লানত করা অনুচিত। তাদের মতে হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের প্রতিও নয়। কারণ, নামাজি ব্যক্তির প্রতি এবং যারা আমাদের কিবলা মানে, এমন ব্যক্তির প্রতি লানত দেওয়ার বিধান নেই। আর রাসুলুল্লাহ (দঃ) কর্তৃক কেবলা মান্যকারীকে লানত করার যেসব বর্ণনা এসেছে, তার কারণ হচ্ছে, তিনি (দঃ) মানুষের ভিতরগত সেইসব অবস্থা জানতেন,যা অন্য মানুষে তা জানে না। যাহোক, কেউ কেউ এজিদের প্রতি লানত বর্ষণ করেছেন। তার কারণ হচ্ছে - এজিদ যখন ইমাম হুসাইনকে (রাদ) হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে এজিদ কাফির হয়ে গিয়েছে। সর্বশেষ কথা হচ্ছে, সমস্ত আলিম সেই ব্যক্তিকে লানত করার ব্যপারে একমত,যে ব্যক্তি ইমাম হুসাইনকে (রাদ) হত্যা করেছে, বা আদেশ করেছে, কিংবা অনুমোদন দিয়েছে অথবা সম্মতি প্রকাশ করেছে। সত্যকথা হচ্ছে, ইমাম হুসাইনকে (রাদ) হত্যা করার ব্যাপারে এজিদের আদেশ ছিল। ইমামের শাহাদতে এজিদ আনন্দ প্রকাশ করে ছিল। নবিবংশের প্রতি এজিদের ঘৃণা ও নবিবংশের প্রতি এজিদের অপমান করা সংবলিত অসংখ্য রিওয়ায়াত বর্ণিত হয়ে এসেছে। যা অর্থের দিক থেকে মুতাওয়াতির এর অন্তর্ভূক্ত হয়। যদিও পৃথক পৃথক ভাবে ওসব বর্ণনা খবরে ওয়াহিদ। কাজেই, এজিদের বেলায়, এজিদের ইমানের বেলায় আমাদের কোন প্রকার ইতস্ততা নেই, সে কাফির। এজিদ, তার সাহায্যকারী ও তার দলবলের প্রতি আল্লাহর লানত বর্ষিত হউক। "শরহে আকাইদে নসফি,বায়ানুল ফাওয়াইদ ২য় খণ্ড ২৩৬ পৃষ্ঠা।